এক দশক আগে রাজনৈতিক অঙ্গনে পা রাখার পর থেকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ বিপর্যয়কর শক্তি হিসেবে কাজ করেছেন। ২০ জানুয়ারি তার দ্বিতীয় মেয়াদের এক বছর পূর্ণ হবে। কিন্তু তার দ্বিতীয় প্রেসিডেন্ট আমলের প্রথম বছরে পরিবর্তনের গতি আমেরিকান প্রজাতন্ত্রের প্রায় ২৫০ বছরের ইতিহাসে এর আগে দেখা যায়নি। জানুয়ারিতে তার শপথের পর ট্রাম্প নতুন শুল্ক পরিকল্পনার মাধ্যমে বিশ্ববাণিজ্য শৃঙ্খলাকে পালটে দিয়েছেন। মার্কিনিদের পকেট কাটার ব্যবস্থা করেছেন।
ট্রাম্প বিশ্বব্যাপী সংঘাতের মধ্যে হোয়াইট হাউজে প্রবেশ করেছেন, অর্থনৈতিক হুমকি ব্যবহার করে সংঘাত বন্ধের চেষ্টা করেছেন। কখনো সফলতা পেয়েছেন। তার দাবি, মধ্যপ্রাচ্যে ঘটেছে। ট্রাম্প ইউএসএআইডির তহবিল প্রায় বন্ধ করে দিয়েছেন। স্বাভাবিক অনুমোদন ছাড়াই হোয়াইট হাউজে ব্যাপক কাঠামোগত পরিবর্তন করেছেন, রাস্তায় টহল দেওয়ার জন্য ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েন করেছেন। নিজের নাম যুক্ত করার পর কেনেডি সেন্টারের নাম এখন ট্রাম্প কেনেডি সেন্টার। তিনি গাজায় যুদ্ধবিরতি আনলেও ইসরাইলি হামলা থামেনি, বরং গাজার পুরোটাই দখলের চেষ্টায় ইসরাইল। নতুন করে ভেনিজুয়েলায় হামলার চেষ্টা এবং নাইজেরিয়ায় বড় ধরনের হামলা করা হয়েছে।
রেকর্ডসংখ্যক নির্বাহী আদেশ ফেডারেল তথ্য অনুসারে, ট্রাম্প তার প্রথম বছরে সাম্প্রতিক পূর্বসূরিদের তুলনায় বেশি নির্বাহী আদেশ জারি করেছেন। দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম দিনেই ট্রাম্প বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং প্যারিস জলবায়ু চুক্তি থেকে সরে এসে বেশ কয়েকটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেন। জন্মগত নাগরিকত্ব বাতিল করেছেন। ট্রাম্প কানাডা এবং মেক্সিকোর ওপর অধিক শুল্ক আরোপ করেছেন। তিনি মৃত্যুদণ্ড ফিরিয়ে এনেছেন। শিক্ষা বিভাগ ভেঙে দিয়েছেন। প্রায় ২০টি দেশের ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আছে। ডিসেম্বর পর্যন্ত ট্রাম্প চোখ ধাঁধানো ২২০টি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছেন।
0 মন্তব্যসমূহ