Header Ads Widget

Responsive Advertisement

শিহাব-উল্লাহ খাঁন মনির

শিহাব উল্লাহ-খান মনির: এক আদর্শনিষ্ঠ ও মানবিক নেতার জীবনচিত্র


মোঃ শিহাব উল্লাহ-খান মনির (জন্ম: ১২ সেপ্টেম্বর ২০০০) বাংলাদেশের নতুন প্রজন্মের একজন প্রতিবাদী রাজনীতিবিদ, সফল উদ্যোক্তা এবং নিবেদিতপ্রাণ সমাজসেবক। বর্তমানে তিনি জাতীয় যুবশক্তি-এনসিপি (NCP) এর গাজীপুর মহানগর শাখার যুগ্ম সদস্য-সচিব এবং জাতীয় নাগরিক কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

১. সংগ্রামী শৈশব ও পারিবারিক মূল্যবোধ

গাজীপুরের এক দরিদ্র কৃষক পরিবারে বেড়ে ওঠা শিহাব উল্লাহর জীবন ছিল প্রতিকূলতায় ঘেরা। অভাবের সংসারে বড় হলেও তিনি নৈতিক শিক্ষায় ছিলেন অটল। তাঁর পিতা মৃত মোহাম্মদ আলীকে তিনি কেবল বাবা হিসেবে নয়, বরং একজন ঘনিষ্ট বন্ধুর মতো দেখতেন এবং আমৃত্যু তাঁর পাশে ছায়ার মতো ছিলেন। বর্তমানে তাঁর বৃদ্ধা মা তাঁরই পরম মমতা ও যত্নে জীবন অতিবাহিত করছেন। মা-বাবার প্রতি এই অগাধ শ্রদ্ধা তাঁর জীবনের অন্যতম চালিকাশক্তি।

২. জনসেবার প্রথম পাঠ

মাত্র ১০-১১ বছর বয়সে অবহেলিত একটি ভাঙা রাস্তা নিজ হাতে মেরামত করে সাধারণ মানুষের যে দোয়া ও ভালোবাসা তিনি পেয়েছিলেন, তা-ই তাঁর মনে জনসেবার নেশা জাগিয়ে তোলে। সেই থেকেই তিনি মানুষের অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে নিজেকে সঁপে দেওয়ার স্বপ্ন দেখতে শুরু করেন।

৩. রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও আদর্শিক লড়াই

অষ্টম শ্রেণিতে থাকাকালীন তিনি রাজনীতিতে যুক্ত হন। ক্ষমতার লোভ দেখিয়ে আওয়ামী লীগ তাঁকে টানার চেষ্টা করলেও তিনি পরিবারতন্ত্র ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে বাংলাদেশ কংগ্রেসে যোগ দেন। মাত্র ৩ বছরে তিনি কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক (ঢাকা বিভাগ) পদে উন্নীত হন। দলের প্রয়োজনে এবং কর্মীদের সুযোগ করে দিতে তিনি স্বেচ্ছায় সেই পদ ছেড়ে সহ-সম্পাদক (বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি) পদের দায়িত্ব নেন।

তবে দলের "আওয়ামী লীগ প্রীতি" তাঁকে ব্যথিত করত। তিনি মনেপ্রাণে বিশ্বাস করতেন যে, একদিন এই স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে সেনাবাহিনী অথবা দেশের আপামর জনতা বিদ্রোহ করবেই। ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার বিপ্লবে তাঁর সেই বিশ্বাসের প্রতিফলন ঘটে।

৪. ২০২৪-এর বিপ্লব ও ত্যাগের রাজনীতি

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে তিনি সক্রিয়ভাবে রাজপথে লড়াই করেন। ৪ঠা আগস্ট সহকর্মীদের ওপর ছাত্রলীগের হামলার প্রতিবাদে এবং সাধারণ মানুষের পক্ষে থাকার অঙ্গীকার নিয়ে তিনি পুরাতন দল ত্যাগ করেন। ৫ই আগস্টের পর তিনি জাতীয় নাগরিক কমিটির মাধ্যমে নতুন বাংলাদেশ গড়ার লড়াইয়ে যুক্ত হন এবং বর্তমানে জাতীয় যুবশক্তির গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকে নিস্বার্থভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।

৫. মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি ও নারী অধিকার

শিহাব উল্লাহ-খান মনির নারী অধিকারের প্রশ্নে আপসহীন। তিনি বিশ্বাস করেন প্রতিটি নারীর মর্যাদা রক্ষা করা সমাজের দায়িত্ব। তাঁর দরবারে যখন কোনো অসহায় নারী, এমনকি সমাজচ্যুত কোনো পতিতা বা বেশ্যাও বিচারের আশায় আসে, তিনি তাকে প্রাপ্য সম্মান দিয়ে তার সমস্যা সমাধানে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেন। তাঁর কাছে মানুষের পরিচয় তার বিপদে, পেশায় নয়।

৬. প্রাতিষ্ঠানিক ও সামাজিক অবদান

  • হাসি শিক্ষা ফাউন্ডেশন: শৈশবের অভাব ও শিক্ষা বঞ্চিত হওয়ার কষ্ট থেকে তিনি এটি প্রতিষ্ঠা করেন, যা বর্তমানে অসংখ্য মেধাবী শিক্ষার্থীর স্বপ্নের ভরসাস্থল।

  • ঢাকা ব্রিফ ডটকম: সংবাদমাধ্যমের দলদাসত্বের প্রতিবাদে তিনি এই পোর্টালটি প্রতিষ্ঠা করেন যাতে সত্য খবর মানুষের কাছে পৌঁছাতে পারে।

৭. শিক্ষা ও পেশা

তিনি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএসএস সম্পন্ন করেছেন এবং বর্তমানে এলএলবি অধ্যয়নরত। ব্যবসার ক্ষেত্রেও তিনি একজন সফল উদ্যোক্তা; তাঁর মালিকানাধীন কম্পিউটার প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বিল্ডার্স কোম্পানি এবং 'ফাইবার ক্যাম' নামক শিল্প প্রতিষ্ঠান তাঁর কর্মসংস্থান ও মেধার পরিচয় বহন করে।


উপসংহার: শিহাব উল্লাহ-খান মনির একজন আবেগপ্রবণ ও দরদী মানুষ। টিভিতে বা বাস্তবে কারো দুঃখ দেখলে আজও তাঁর চোখে পানি চলে আসে। ক্ষমতার মোহহীন, যোগ্যতাকে সম্মান দেওয়া এবং মানবিক সমাজ গড়ার এই কারিগর আগামী দিনের বাংলাদেশে এক উজ্জ্বল সম্ভাবনা।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ