Header Ads Widget

Responsive Advertisement

বসন্তের ছোঁয়ায় নবরূপে রাবি ক্যাম্পাস

বসন্ত ঋতুতে নতুন রূপ পেয়েছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) ক্যাম্পাস।
চারদিকে ঝরে পড়া হলুদ শুকনা পাতার আস্তরণ মাটির বুকে নরম চাদরের মতো
বিছিয়ে আছে। বাতাসে গাছের ডাল দুলে উঠলেই টুপটাপ করে ঝরে পড়ছে পাতা। আর
তাতে তৈরি হচ্ছে এক নান্দনিক পরিবেশ। দেখে মনে হবে যেন হলুদ পাতার গালিচা
বিছানো।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্যবাহী প্যারিস রোডের দুই পাশে সারি সারি গাছে গজেছে
নতুন পাতা। শহীদ মিনার প্রাঙ্গণ থেকে টুকিটাকি চত্বর—সবখানেই বসন্তের
ছোঁয়া স্পষ্ট। গাছে গাছে ফুটে উঠছে রঙিন ফুল।

হালকা রোদে শিক্ষার্থীরা মেতে উঠছেন আড্ডায়। কেউ বসন্তের আবেশে গুনগুন
করে গান গাইছেন, কেউবা এই সৌন্দর্য ক্যামেরাবন্দি করতে ব্যস্ত। চারপাশে
পাখির কলতান আর কোকিলের সুমধুর 'কুহু কুহু' ডাক ঋতুরাজের আগমন জানান
দিচ্ছে।

রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী তনিমা জাগো নিউজকে বলেন, 'বসন্ত এলে
ক্যাম্পাসে এক বিশেষ আবহ তৈরি হয়। পরীক্ষার চাপ আর ক্লাসের ব্যস্ততার
মাঝেও হলুদ পাতার এই সৌন্দর্য মনকে প্রশান্ত করে। শহরের কোলাহলে এমন
দৃশ্য পাওয়া যায় না। তাই বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের এই মুহূর্তগুলো আমাদের
কাছে আরও মূল্যবান।'

বিশ্ববিদ্যালয়ের এগ্রোনমি অ্যান্ড অ্যাগ্রিকালচারাল এক্সটেনশন বিভাগের
অধ্যাপক ড. মো. গিয়াসউদ্দিন আহমেদ বলেন, 'বাংলাদেশ ভারতীয় উপমহাদেশের
ট্রপিক ও সাব-ট্রপিক অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় এখানে বৃক্ষরাজির ব্যাপক
বৈচিত্র্য দেখা যায়। কিছু গাছ সারা বছর সবুজ থাকে—এসবকে চিরহরিৎ গাছ বলা
হয়, যেমন বট, বিভিন্ন প্রজাতির পাম ও আমগাছ। আবার কিছু গাছ নির্দিষ্ট
ঋতুতে পাতা ঝরায়, যেগুলোকে পর্ণমোচী গাছ বলা হয়।'

পর্ণমোচী গাছের পাতা ঝরার পেছনে জলবায়ুগত কারণ গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে
তিনি বলেন, শীতের শেষে বা বসন্তকালে বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ কমে গিয়ে
আপেক্ষিক আর্দ্রতা প্রায় ৫০ শতাংশ বা তার নিচে নেমে আসে। এসময় গাছের
পাতার মাধ্যমে পানি নির্গমন (প্রস্বেদন) বেশি হওয়ায় গাছ পানির অপচয় রোধ
করতে পাতা ঝরিয়ে দেয়। এতে গাছ প্রতিকূল পরিবেশেও টিকে থাকতে পারে।'

ঝরে পড়া পাতার গুরুত্ব নিয়েও কথা বলেছেন এই অধ্যাপক। তিনি বলেন, 'পাতা
ঝরা পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। মাটিতে পচে
এগুলো জৈব সারে পরিণত হয় এবং সেই পুষ্টি আবার গাছ গ্রহণ করে—এটি একটি
স্বাভাবিক প্রাকৃতিক চক্র।'

মনির হোসেন মাহিন/এসআর/জেআইএম
আরও পরুন
https://www.jagonews24.com/campus/news/1104113

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ