মহান মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই গণঅভ্যুত্থান নিয়ে গবেষণায় অনুদান দিতে একটি
নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। এক্ষেত্রে প্রাতিষ্ঠানিক, স্বচ্ছ ও
জবাবদিহিমূলক গবেষণা কার্যক্রমের জন্য সম্প্রতি 'গবেষণা (পরিচালনা,
অর্থায়ন ও ব্যবস্থাপনা) নির্দেশিকা ২০২৬' করেছে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক
মন্ত্রণালয়।
নির্দেশিকায় গবেষণার ধরন অনুযায়ী সর্বনিম্ন ৫ লাখ থেকে সর্বোচ্চ ২৫ লাখ
টাকা পর্যন্ত অনুদান দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে। পাশাপাশি অর্থ
ব্যবস্থাপনায় কঠোর নিয়ন্ত্রণ ও জবাবদিহি নিশ্চিতের দিকনির্দেশনা দেওয়া
হয়েছে।
নির্দেশিকা অনুযায়ী, গবেষণাকে তিনটি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে। এর মধ্যে
ক-শ্রেণির দলীয় বা প্রাতিষ্ঠানিক গবেষণায় ১০ লাখ থেকে ২৫ লাখ টাকা
পর্যন্ত অনুদান দেওয়া হবে। খ-শ্রেণির একক গবেষণায় ৫ লাখ থেকে ১০ লাখ টাকা
এবং গ-শ্রেণির একক গবেষণায় সর্বোচ্চ ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থায়নের সুযোগ
রাখা হয়েছে। গবেষণার গুরুত্ব ও ব্যাপ্তি বিবেচনায় প্রয়োজনে এই আর্থিক
সীমা পুনর্নির্ধারণ করা যাবে।
গবেষণার মেয়াদ যথাক্রমে সর্বোচ্চ ১২, ৯ ও ৬ মাস নির্ধারণ করা হয়েছে।
গবেষণার অনুদান ধাপে ধাপে ছাড় করা হবে। প্রারম্ভিক প্রতিবেদন (ইনসেপশন
রিপোর্ট) গ্রহণের পর প্রথম কিস্তিতে ৪০ শতাংশ অর্থ দেওয়া হবে। গবেষণার
অন্তত অর্ধেক কাজ সম্পন্ন হলে মধ্যবর্তী প্রতিবেদন (মিড-টার্ম রিপোর্ট)
উপস্থাপনের ভিত্তিতে আরও ৪০ শতাংশ এবং চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা ও অনুমোদনের
পর বাকি ২০ শতাংশ অর্থ ছাড় করা হবে। পূর্ববর্তী কিস্তির অর্থের হিসাব
সমন্বয় না করা পর্যন্ত পরবর্তী কিস্তি দেওয়া হবে না বলে নির্দেশিকায়
জানানো হয়েছে।
নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, গবেষণার মোট বাজেটের সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ সম্মানী
হিসেবে গবেষণা পরিচালক, সহ-গবেষক ও সংশ্লিষ্টদের মধ্যে বণ্টন করা যাবে।
এর মধ্যে গবেষণা পরিচালক সর্বোচ্চ ২৫ শতাংশ, সহ-গবেষকরা ১৫ শতাংশ এবং
গবেষণা সহযোগী ও সহকারীরা সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ পর্যন্ত সম্মানী পাবেন। বাকি
অর্থ তথ্য সংগ্রহ, বিশ্লেষণ, প্রতিবেদন প্রণয়ন, মুদ্রণ ও অন্যান্য
প্রয়োজনীয় খাতে ব্যয় করা যাবে।
নির্দেশিকায় গবেষণার ক্ষেত্র হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে মহান
মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপট, ইতিহাস-ইতিবৃত্ত, সংগ্রাম, প্রভাব ও ফলাফল;
গণমানুষের অংশগ্রহণ; বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ তালিকার যাচাই এবং
প্রশাসনিক সংস্কার; ১৯৭১ সালের গণহত্যা, যুদ্ধাপরাধ, মানবাধিকার লঙ্ঘন ও
শরণার্থী বিষয়ক পরিসংখ্যান ও দলিলায়ন; শহীদ বুদ্ধিজীবী, বধ্যভূমি ও
শহীদদের নিয়ে গবেষণা; মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক শিক্ষা, পাঠ্যক্রম ও জনসচেতনতা;
নারী, শিশু ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের ভূমিকা, আত্মত্যাগ ও অভিজ্ঞতা; ডিজিটাল
আর্কাইভ, জিআইএস ম্যাপিং ও স্মৃতিভিত্তিক প্রামাণ্য সংরক্ষণ; পাশাপাশি
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপট ও কারণ, প্রত্যাশা, প্রাপ্তি ও
চ্যালেঞ্জ; শহীদ পরিবার ও আহতদের পুনর্বাসন; রাষ্ট্র সংস্কারে এর চেতনার
বাস্তবায়ন; গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি সংরক্ষণ এবং শহীদ ও জুলাই যোদ্ধাদের
বীরত্বগাঁথা—এছাড়াও মন্ত্রণালয় নির্ধারিত সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয়েও
গবেষণা পরিচালনা করা যাবে।
অর্থ ব্যবস্থাপনায় কঠোর জবাবদিহি নিশ্চিত করতে নির্দেশিকায় বলা হয়েছে,
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে গবেষণা শেষ না হলে বা প্রতিবেদন বাতিল হলে গৃহীত
অনুদানের অর্থ ফেরত দিতে হবে। একইভাবে ব্যয় শেষে কোনো অর্থ উদ্বৃত্ত
থাকলে তা মন্ত্রণালয়ে জমা দিতে হবে। সব ধরনের ব্যয়ের ক্ষেত্রে ভাউচার,
রশিদ ও ব্যয় বিবরণী জমা দিয়ে হিসাব সমন্বয় বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
নির্দেশিকা অনুযায়ী, গবেষণার অর্থ মন্ত্রণালয়ের পরিচালন ও উন্নয়ন বাজেট,
বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বা উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার মাধ্যমে আসবে।
ব্যয় নির্বাহে সরকারি আর্থিক বিধি-বিধান ও অডিট ব্যবস্থার অনুসরণ নিশ্চিত
করা হবে।
গবেষণা কার্যক্রম বাংলা এবং ইংরেজি মাধ্যমে সম্পাদন করা যাবে।
এতে আরও বলা হয়েছে, গবেষণায় গুণগত মান, নিরপেক্ষতা ও নৈতিকতা বজায় রাখা
বাধ্যতামূলক। কোনো ধরনের চৌর্যবৃত্তি প্রমাণিত হলে গবেষণা বাতিলসহ
আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। গবেষণার ফলাফল নীতিনির্ধারণ, আইন সংস্কার,
পাঠ্যক্রম উন্নয়ন ও আন্তর্জাতিক ফোরামে ব্যবহারের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
আরএমএম/ইএ
আরও পরুন
https://www.jagonews24.com/national/news/1104114
0 মন্তব্যসমূহ