Header Ads Widget

Responsive Advertisement

অপারেশন থিয়েটারে রোগীর মৃত্যু, দুই চিকিৎসককে মারধর-ক্লিনিকে ভাঙচুর

মেহেরপুর ক্লিনিকে জরায়ু টিউমার অপারেশন করতে গিয়ে নাসিমা খাতুন (৫৫) এক
নারীর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় তার স্বজনরা ক্ষুব্ধ ক্লিনিকে হামলার
পাশাপাশি মালিক ও চিকিৎসককে মারধর করেন।

রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) রাত ৯টার দিকে ক্লিনিকের অপারেশন থিয়েটারে রোগীর
মৃত্যু হয়। নিহত নাসিমা খাতুন গাংনী উপজেলার গাড়াবাড়ীয়া গ্রামের আব্দুল
মজিদের স্ত্রী।

মারধরের শিকার চিকিৎসকরা হলেন- ক্লিনিকের মালিক ডা. মিজানুর রহমান ও তার
ছেলে এনেসথেসিস্ট ডা. অভি। দুজনকে মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা
হয়েছে।

জানা গেছে, গাংনী উপজেলার গাড়াবাড়ীয়া গ্রামের আব্দুল মজিদের স্ত্রী
নাসিমা খাতুনের জরায়ু টিউমারের অপারেশন করার জন্য মেহেরপুর ক্লিনিকের
মালিক ডা. মিজানুর রহমানের সঙ্গে ২৫ হাজার টাকায় চুক্তি করে তার ছেলে
নাজমুল হুদা। চুক্তি মোতাবেক তার মাকে বিকেলে মেহেরপুর ক্লিনিকে ভর্তি
করেন। ডাক্তারের কথা মতো দুই ব্যাগ রক্ত সংগ্রহ করে দেন ও অগ্রিম ৬
হাজার টাকা দেন।

রাত ৮টার দিকে নাসিমা খাতুনকে অপারেশন থিয়েটারে নেন ক্লিনিকের স্টাফরা।
সেখানে ডা. মিজানুর রহমান অপারেশন করেন ও তার ছেলে এনেসথেসিস্ট ডা. অভি
সহযোগী হিসেবে ছিলেন। কিছুক্ষণ পর অপারেশন টেবিলেই রোগী মারা যান। এ
ঘটনায় রোগীর স্বজনরা ক্ষুব্ধ হয়ে চিকিৎসকের ওপর হামলা চালান। এতে
এনেসথেসিস্ট ডা. অভি গুরুতর আহত হয়। তাকে উদ্ধার করে মেহেরপুর জেনারেল
হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। খবর পেয়ে রোগীর লোকজন গ্রাম থেকে গিয়ে পুনরায়
ক্লিনিকে হামলা চালানোর চেষ্টা করে। তাৎক্ষণিক সেনাবাহিনীর একটি টিম গিয়ে
বিক্ষুব্ধদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।

এদিকে খবর মেহেরপুরের সাবেক এমপি মাসুদ অরুন, বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট
মারুফ আহমেদ বিজন ঘটনাস্থলে পৌঁছে রোগীর লোকজনকে শান্ত করেন।

নাসিমা খাতুনের ছেলে নাজমুল হুদা জানান, তার মায়ের জরায়ু টিউমারের
অপারেশন করার জন্য রাত ৮টার দিকে অপারেশন থিয়েটারের নেন ক্লিনিকের লোকজন।
কিছুক্ষণ পর আমার মা যন্ত্রণার তীব্রতায় অপারেশন না করে ছেড়ে দিতে চিৎকার
করতে থাকেন। তারা তাকে ছেড়ে দেয়নি। কিছুক্ষণ পরে জানায় রোগী মারা গেছে।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে নাজমুল বলেন, 'আমার মাকে ওই মিজান ডাক্তার মেরে ফেললো,
আমি এখন কাকে নিয়ে থাকবো?'

মেহেরপুর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সার্কেল) মেহেদী হাসান দিপু জানান, আমরা
মরদেহ উদ্ধার করে মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে নিয়েছি। সেখানে চিকিৎসক
পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে জানাবেন কী কারণে রোগীর মৃত্যু হয়েছে। যদি চিকিৎসার
অবহেলা বা ত্রুটি পাওয়া যায় তবে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) জেলা সভাপতি ডা. আব্দুস সালাম
বলেন, অস্ত্রোপচারের আগে রোগীর মৃত্যু হয়েছে। কোনারকম তদন্ত ছাড়াই
চিকিৎসকদের মারধর ও ক্লিনিক ভাঙচুরের ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানাই।

আসিফ ইকবাল/এমএন/এমএস
আরও পরুন
https://www.jagonews24.com/country/news/1094164

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ