Header Ads Widget

Responsive Advertisement

স্কুল ভর্তিতে লটারি থেকে পরীক্ষায় ফিরতে চাই: প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা

মেধাভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাইলে শিক্ষা ব্যবস্থায় বৈষম্য থাকা উচিত
নয় জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা, বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও তথ্য প্রযুক্তি
মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলেছেন, লটারি থেকে এক্সাম বেইজ
প্রসেসে (পরীক্ষা নির্ভর ব্যবস্থা) আবার ফেরত যেতে চাই।

সোমবার (১৬ মার্চ) সকালে রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে নির্বাচনি
ইশতেহারের আলোকে আগামী দিনের শিক্ষাখাত: নতুন চিন্তা, নতুন কাঠামো ও নতুন
পদক্ষেপ শীর্ষক নাগরিক প্ল্যাটফর্ম সংলাপে এসব কথা বলেন তিনি। এসডিজি
বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম এই সংলাপের আয়োজন করে।

স্কুলে ভর্তি প্রক্রিয়ায় লটারিকে ব্ল্যাক বক্স উল্লেখ করে তিনি বলেন,
অনেক স্কুল জানিয়েছে লটারি তারা পছন্দ করছে না। ইটস আ ব্ল্যাক বক্স।
এরইমধ্যে সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে আলোচনা করেছি যে, লটারি থেকে
এক্সাম বেইজ প্রসেসে আবার ফেরত যেতে চাই।

নতুন বছরের আগে শিক্ষা কারিকুলামে পরিবর্তন আনার চেষ্টা করা হচ্ছে উল্লেখ
করে মাহাদী আমিন বলেন, কারিকুলামকে দলীয়করণ করা হয়েছে। আগামী বছরে
জানুয়ারির আগে ক্যারিকুলামকে ডেভলোপ করতে পরি। যেখানে প্রয়োজন কিছুট
রিডিজাইন করতে পারি, সে চেষ্টা চলছে। এটা আপনাদের দায়িত্ব আমাদের ওপর
প্রেশার রাখা। সেটা যেনো পলিটিসাইজড না হয়। যেটা সঠিকভাবে হওয়া উচিত,
আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থা গঠনের জন্য যা যা প্রয়োজন সেরকমভাবে যেনো
কারিকুলামকে ডেভেলপ করতে পারি। শিক্ষাক্ষেত্রে আমাদের সুনির্দিষ্ট
ম্যানিফেস্টো রয়েছে। এটা ডেলিভার করতে পারলে স্বাভাবিকভাবে সরকার এগিয়ে
যাবে। না পারলে সেই জবাবদিহিতা নাগরিক সমাজ তৈরি করবে।

শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য কেবল সার্টিফিকেট অর্জন নয় জানিয়ে তিনি বলেন, এর
অনেক বড় লক্ষ্য আছে। ভ্যালু বেইজড এডুকেশন হওয়া উচিত। দেশের বিপুল
জনগোষ্ঠী বেকার। শিক্ষার আরও একটা উদ্দেশ্য হওয়া উচিত ক্যাপাসিটি,
টেকনিক্যালিটি, ক্যাপাবিলিটি তৈরি করা, যার ওপর ভিত্তি করে শিক্ষিতরা
আত্মকর্মসংস্থানের মাধ্যমে উদ্যোক্তা হতে পারেন। দেশ ও বিদেশে
কর্মসংস্থানের জন্য যোগ্যতা পেতে পারেন। এ দুটি লক্ষ্য অর্জনে শিক্ষা
ব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় সংস্কার করতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভোকেশনাল শিক্ষায় গুরুত্বরোপ করেছেন জানিয়ে
তিনি বলেন, আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থার মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে অন্তত ক্লাস
সিক্স থেকে থিওরেটিক্যালি, ক্লাস এইট থেকে একটা প্র্যাকটিক্যাল
এলিমেন্টসহ টেকনিক্যাল ও ভোকেশনাল এডুকেশনকে বাধ্যতামূলক করা। ক্রমান্বয়ে
সাইন্স, আর্টস ও কমার্স এই তিন বিষয়ে; অন্ততপক্ষে একটা করে সাবজেক্ট
টেকনিক্যাল ও ভোকেশনালে বাধ্যতামূলক করতে যাচ্ছি।

সরকারের তৃতীয় ভাষা শেখানোর প্রতিশ্রুতি রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, সেই
ভাষাগুলো যেগুলোতে দেশের বাইরে আমাদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে
সেগুলোকে প্রাধান্য দিচ্ছি। এরইমধ্যে বিভিন্ন দূতাবাসের সঙ্গে কথা বলেছি।
জাপান, চায়না, কোরিয়া, ইতালি, ফ্রান্স, জার্মানি আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
দূতাবাস থেকে কারিগরি সহায়তা পাওয়ার চেষ্টা করছি। ওনাদের নিজেদের দেশ
থেকে লোক পাঠানো, যেন তারা শিক্ষক হিসেবে কাজ করে। তৃতীয় ভাষা শেখানো
চ্যালেজিং টাস্ক, অনেকগুলো স্কুল রয়েছে। শুরুতে যদি একেকটি জেলাতে
নির্দিষ্ট ভাষাকে টার্গেট করি তাহলে এডুকেশন সিস্টেমে ইন্টিগ্রেট করতে
পারি।

মেধা ভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাইলে শিক্ষা ব্যবস্থায় বৈষম্য থাকা
উচিত নয় জানিয়ে তিনি বলেন, শিক্ষা ব্যবস্থায় ইনহেরিন্টলি বৈষম্য রয়েছে।
বাংলা মাধ্যম, ইংরেজি মাধ্যম, মাদরাসা শিক্ষা ব্যবস্থা রয়েছে। ক্রমান্বয়ে
বাংলা মাধ্যমে শিক্ষার্থী কমছে। এটা নিয়ে কাজ করার সুযোগ রয়েছে।

এসএম/এএমএ
আরও পরুন
https://www.jagonews24.com/education/news/1102505

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ